জিন প্রকৌশল


আধুনিক যুগের জীবন ব্যবস্থা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন নতুন আবিষ্কারে আমাদের জীবনযাপন, চিন্তা-চেতনা সবকিছুতেই ঘটছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো জিন প্রকৌশল (Genetic Engineering)। এটি মূলত জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। ভিন্ন প্রকৃতির একাধিক DNA অণু পরস্পর সংযুক্ত করে অন্য একটি জীবকোষে বা জীবদেহে স্থানান্তর করে জিনোটাইপের পরিবর্তন করানোর কৌশলকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলে। যদিও এটি প্রাকৃতিক ভাবেও সংঘটিত হতে পারে। দেখা যায় একটি জীবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মানে হচ্ছে এমন একটি বা একাধিক বৈশিষ্ট ধারক জিন প্রবেশ করানো হচ্ছে, যা উক্ত জীবদেহে এর আগে ছিল না। একে অনেক সময় Genetically Modified Organism (GMO) বলা হয়। জিন প্রকৌশন মূলত উন্নত বৈশিষ্টধারী উদ্ভিদ ও প্রাণী সৃষ্টিতে কাজ করে।

genetic

১৯৭২ সালে আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের (Stanford University) পল বার্গ (Paul Berg) সর্বপ্রথম রিকম্বিনেন্ট আবিষ্কার করেন ডিএনএ (Deoxyribo Nucleic acid) অণু। এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ১৯৭৩ সালে Herberd Boyer এবং Stanely Cohen রিকম্বিনেন্ট DNA জীব সৃষ্টিতে সফল হন। একারনে তাদের জিন প্রকৌশলের আবিষ্কারক বলা হয়। তেদের দেখানো পথ ধরেই আজকে জিন প্রকৌশল অত্যান্ত সম্ভাবনাময় একটি ক্ষেত্র তৈরি করতে পেরেছে। জিন প্রকৌশলের জন্য যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় একে বলা হয় রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি।

DNA Infection. Concept. 3D Render

বর্তমানে জিন প্রযুক্তি নানান ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন নতুন জাতের উদ্ভাবন, পতঙ্গনাশক বিভিন্ন পদ্ধতি আবিষ্কার করা হচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিভিন্ন রোগ নির্ণয় ও রোগপ্রতিরোধে, টিকা, ভ্যাকসিন, এন্টিবডি, এন্টিজেন ও ভিটামিন তৈরিতে, এছাড়া ক্যামোথেরাপি, রেডিওথেরাপি প্রভৃতি কাজে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এমন কি বর্তমানে ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসায় যে ইনসুলিন ব্যবহার করা হয়, Eli lilly and company নামক আমেরিকার একটি ওষুধ কোম্পানি জিন কৌশলের মাধ্যমে এটির মূল কৌশল আবিষ্কার করেন। যা পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে মনব ইনসুলিন “হিউমুলিন” নামে সর্বপ্রথম বাজারজাত করা হয়।

জিন প্রকৌশল আধুনিক বিশ্বের অত্যান্ত সম্ভাবনাময় একটি ক্ষেত্র। বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, গবেষণার ফলস্বরূপ জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে এ পর্যন্ত লক্ষণীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। উন্নত জাতের ফসল, উদ্ভিদ, প্রাণী উদ্ভাবনের মাধ্যমে আমাদের জীবন ও অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধশালী করছে। বাংলাদেশও এক্ষেত্রে খুব বেশি পিছিয়ে নেই। নতুন নতুন ধান পাটের জাত উদ্ভাবন করে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের সোনালী প্রভাতেরই পূর্বাভাস দিচ্ছে।

2 thoughts on “জিন প্রকৌশল”

Leave a Reply

Your email address will not be published.