প্রজাপতির রহস্যময়ী জীবন চক্র


পৃথিবীতে প্রকৃতির রং রূপ সুন্দর্যে মুগ্ধ হয় আমরা। কত বিচিত্র আর গোছালো এর উপাদানগুলো। কর্মব্যস্তময় ক্লান্ত জীবনে আমরা প্রশান্তি খুঁজে নেই এই প্রকৃতি থেকেই। প্রকৃতির অনিন্দ্য সুন্দর নয়নাবিরাম বর্ণময় চঞ্চল প্রকৃতির প্রতিনিধি হচ্ছে প্রজাপতি। বিচিত্র রং আর বৈচিত্রময় নকশার বর্ণিল পাখা দিয়ে ডালে ডালে উড়ে বেড়ানো কিংবা ফুলে ফুলে চঞ্চলতার দুল জাগানো। প্রজাপতির বরণাট্য এই রঙিন দুনিয়ার প্রতি কার না  আকর্ষণ জাগে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই এর সুন্দর্যে মুগ্ধ। আমাদের অনেকের তো আবার প্রজাপতির মতো রঙিন ডানা মেলে আকাশে উড়ে বেড়ানোর ইচ্ছে জাগে! কিন্তু আমরা কি জানি অপরূপ প্রাকৃতিক সুন্দর্যের অধিকারী এই ছোট্ট প্রাণীটির জীবন প্রণালী। আমরা অনেকেই জানিনা প্রজাপতির জীবন প্রণালী সম্পর্কে! আজ আমরা জেনে নিবো প্রজাপতির জীবন প্রণালী সম্পর্কে।

প্রজাপতি লেপিডোপ্টেরা(Lepidoptera) প্রজাতির একটি কিট বা প্রাণী। এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে ১৭৫০০ প্রজাতির প্রজাপতি পাওয়া যায়। এর প্রত্যেকটি আবার আলাদা আলাদা নিজস্ব রুপ বিশিষ্টের অধিকারী। এর মধ্যে IUCN(International Union Conservation Nature) তথ্যানুসারে বাংলাদেশে পাওয়া যায় ২০০ প্রজাতির প্রজাপতি। প্রজাপতির জীবনকে চার ধাপে বিভক্ত করা যায় ১. ডিম, ২. শুঁয়োপোকা বা লার্ভা, ৩. পিউপা, ৪. পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতি।

প্রকৃতির সুন্দর্য প্রজাপতি

১. ডিম (Egg): একটি প্রজাপতির জীবনের প্রথম ধাপ ডিম। স্ত্রী প্রজাপতিরা সাধারণত গাছের পাতায় ডিম পারে। ডিমগুলো হয় নরম এবং গায়ে আটালো একপ্রকার পদার্থ থাকে তাই ডিমগুলো পরে যায় না। ডিমের এই ধাপটি কয়েক সপ্তাহর মতো স্থায়ী হয়।

শুঁয়োপোকা

২. শুঁয়োপোকা (Caterpillar): কয়েক সপ্তাহ পর ডিম থেকে প্রজাপতি বের হয়, কি এমনটাই তো ভেবেছিলেন? কিন্তু না ডিম থেকে প্রজাপতির পরিবর্তে বেরিয়ে আসে শুঁয়োপোকা। ডিমের ভিতরে থেকেই শুঁয়োপোকাটি ডিমের খোসাটি খেতে শুরু করে। এরপর জন্ম নেওয়া পাতাটিও খেয়ে ফেলে। শুয়োপোকা জন্মের পর থেকে শুধু খেতেই থাকে।

গুটিপোকা বা  পিওপা

৩. গুটিপোকা বা  পিওপা (Chrysalis): শুঁয়োপোকাটি অনবরত খেতে থাকার কারণে ৫ দিন থেকে সপ্তাহ খানেকের মধ্যে পরিণত পর্যায়ে চলে আসে, এবং এর পরের ধাপের জন্য প্রস্তুত হয়ে পরে। এরপর একটি সুবিধাজনক জায়গা খুঁজে নিয়ে শুঁয়োপোকাটি উল্টো হয়ে ঝুলে পরে। এবং নিজের খোলস ছেড়ে একধরণের পদার্থ দিয়ে নিজেকে মুরিয়ে শুঁয়োপোকা থেকে গুটিপোকায় পরিণত হয়। ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে গুটিপোকা থেকে বেড়িয়ে আসে  ছোট্ট প্রজাপতি। একে তখন বলা হয় পিওপা।

৪. পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতি (Adult Emerges): তিনটি ধাপ শেষ করে বেড়িয়ে আসা পিওপাটির দৈহিক আকারের তুলনাই ডানা থাকে ছোট। তবে পরবর্তী ২/৩ ঘণ্টার মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতিতে পরিণত হয় এবং উড়তে শুরু করে। প্রিয় পাঠক, এতো রূপান্তরের পর জন্ম নেওয়া প্রজাপতির আয়ুষ্কাল কত জানতে ইচ্ছে করে না? একটি প্রজাপতি স্বাভাবিক ভাবে ৩০ থেকে ৪০ দিন বেঁচে থাকে।

প্রজাপতি যে শুধু প্রাকৃতিক সুন্দর্য বৃদ্ধি করে এমন নয়। প্রকৃতির জীববৈচিত্র ও প্রাকৃতিক জৈব সংরক্ষণে রয়েছে প্রজাপতির অনন্য ভূমিকা। এক ফুল থেকে অন্য ফুলে ছুটে চলার মধ্য দিয়ে সহায়তা করে উদ্ভিদ প্রজাতির পরাগায়নে। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাবে অন্যান্য প্রাণীর মতো অনিন্দ্য সুন্দর  এই উপকারী বিচিত্র প্রাণীটির অস্তিত্বও হুমকির মুখে। আমাদের নিজেদের স্বার্থেই এই প্রাণীদের রক্ষায়, ফিরে আসতে হবে প্রকৃতির কাছে। বাচাতে হবে পরিবেশের উপকারি এই প্রাণীদেরকে, তবেই আমরাও এই পৃথিবীতে বেচে থাকতে পারবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.