বাংলাদেশের কুটির শিল্প

cottage industry

কোন একটি দেশের অর্থনীতিক উন্নয়নে কুটির শিল্পের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কমবেশি বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কুটির শিল্পের অস্তিত্ব রয়েছে। আমাদের দেশেরও রয়েছে কুটির শিল্পের গৌরবময় ঐতিহ্য। যদিও শিল্পবিপ্লবের পর থেকে আমাদের দেশের কুটির শিল্পের অবস্থান শুধুই নিম্ন মুখী। অনেকেই মনে করেন বর্তমান বৃহদায়তন শিল্পের যুগে শিল্পোন্নয়নে কুটির শিল্পের ভূমিকা রাখার জায়গা কম! কিন্তু এই ধারণা অনেক আগেই ভুল প্রমাণ করেছে জাপান। জাপানের বর্তমান শিল্পোন্নতি কুটির শিল্পের উপর নির্ভর করেই গড়ে উঠেছে। জাপানের রপ্তানি বাণিজ্যের শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ ক্ষুদ্র শিল্পজাত দ্রব্য।

এক সময় বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের কুটির শিল্পের কদর ছিল। জগৎবিখ্যাত মসলিন কাপর, বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি নানা রকম আসবাবপত্র, উপজাতিদের তৈরি বাহারি পোশাক, পাট দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পাটজাত পণ্য, কাঁসা-পিতল দিয়ে তৈরি দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন সামগ্রী, বাংলাদেশের কারু শিল্পের ঐতিহ্য শীতলপাটি কিংবা গ্রাম বাংলার নদ-নদী, খাল-বিল, প্রকৃতিক রূপ-সৌন্দর্যকে কারুকাজের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা নকশী কাঁথা। তখন এসব ক্ষুদ্র শিল্পের চাহিদা দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু আমাদের দেশের কুটির শিল্পের আগের ঐতিহ্য আর এখন নেই। কুটির শিল্প এখন প্রাই মৃত শিল্পে পরিণত হয়েছে। যদিও বর্তমানে কুটির শিল্পের উন্নয়নে সরকার নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য “বাংলাদেশ-ক্ষুদ্র-ও-কুটির-শিল্প-করপোরেশন”(বিসিক) নামের একটি মূখ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখান থেকে প্রশিক্ষণ সহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে কুটির শিল্পের প্রসার ঘটানোর চেষ্টা চলছে। যদিও কুটির শিল্পের প্রসারে বিসি্কের নেওয়া পদক্ষেপ পর্যাপ্ত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারপরও আমরা আশাবাদী বাংলাদেশের কুটির শিল্পের হারানো গৌরব ফিরে আসবে।

বাংলাদেশ এখনো শিল্পে অনেক অনুন্নত। আমাদের দেশে শিল্পে বিনিয়োগ করার মতো মূলধনের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে জনশক্তি রয়েছে, যা আমাদের শিল্পোন্নয়নে কাজে লাগাতে পারি। এই জনশক্তিকে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে ক্ষুদ্র শিল্পে কাজে লাগানো যেতে পারে। তাই বাংলাদেশের শিল্পোন্নন কিংবা অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের অগ্রগতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কুটির শিল্প যে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে এমন নয়। কুটির শিল্প একটি দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যও বহন করে। আমাদের কুটির শিল্পেও আমাদের গ্রাম বাংলার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠত। তাই শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নয় আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য রক্ষায় কিংবা আমদের গ্রামীণ সমাজ-সংস্কৃতির প্রচার-প্রসারের জন্যও কুটির শিল্পের উন্নয়ন প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.