দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দীর শারীরিক অবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন হলেও হঠাৎ করে আবারও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি।  আজ শনিবার সিঙ্গাপুর থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার মেয়ে ফাল্গুনী নন্দী।

বাংলাদেশে সুবীর নন্দীর চিকিৎসার বিষয়টি সমন্বয় করেছেন জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন তিনি।

সামন্ত লাল সেন বলেন ‘আমি জানতে পেরেছি, সুবীর নন্দীর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ওষুধ দিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন চিকিৎসকেরা।’

১৮ দিন অজ্ঞান থাকার পর গতকাল চোখ মেলে তাকান সুবীর নন্দী। মেয়েকে দেখে কেঁদেছেন তিনি। আজ শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিন্তায় পড়ে যান চিকিৎসকেরা।

উন্নত চিকিৎসার জন্য ৩০ এপ্রিল সিঙ্গাপুর নেওয়া হয় একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দীকে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের এমআইসিইউতে চিকিৎসাধীন তিনি। রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ১৬ দিন চিকিৎসার পর সুবীর নন্দীকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়।

তার জামাতা রাজেশ শিকদার জানান, সেদিন বিকেলেই সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে বরেণ্য এই শিল্পীর চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু হয়।

এর আগে সুবীর নন্দীকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন সামন্ত লাল সেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর তিনি জানান যে, সুবীর নন্দীর চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সুবীর নন্দী ১২ এপ্রিল পরিবারের সবাইকে নিয়ে মৌলভীবাজারে আত্মীয়ের বাড়িতে যান। সেখানে একটি অনুষ্ঠান ছিল। ১৪ এপ্রিল ঢাকায় ফিরতে ট্রেনে ওঠার জন্য বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে শ্রীমঙ্গলে আসেন তারা। ট্রেনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন সুবীর নন্দী। সেখানে একজন চিকিৎসক থাকায় তার পরামর্শে সুবীর নন্দীকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা ঢাকার বিমানবন্দর স্টেশনে নেমে যান। রাত ১১টার দিকে তাকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। সুবীর নন্দী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও হার্টের অসুখে ভুগছেন।