খুলনা জিআরপি থানার মধ্যে গণধর্ষণের শিকার সেই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশের তদন্ত কমিটি। বৃহস্পতিবার জেল গেটে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ভুক্তভোগী ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে খবর পাঠানো হয়েছে। পুলিশের দুটি তদন্ত কমিটি তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রধান এসপি সেহেলা পারভীন জানান, একজন নারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সকাল ১০টার দিকে খুলনা জেলা কারাগারের গেটে অভিযোগকারী ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার কাছে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ওই দিন রাতে থানায় যাদের ডিউটি ছিল তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে ব্রিফিং করা হবে।

পাকশী রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রধান এএসপি ফিরোজ আহমেদ জানান, ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে তাদেরকে জিআরপি থানায় আসতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট (শুক্রবার) যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে তিন সন্তানের মা এক নারীকে (৩০) আটক করে খুলনা জিআরপি থানা পুলিশ। তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মোবাইল চুরির অভিযোগ দিয়ে ওই নারীকে আটক করা হয়। শুক্রবার রাতে থানার হাজতে ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য তাকে মারধর ও ধর্ষণ করে। পরদিন তাকে ৫ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত রবিবার ওই নারী খুলনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামানের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। এছাড়া তাকে মারধর ও গণধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে গত সোমবার তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।